চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি তেল খালাস শুরু
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 11 Mar, 2026
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি তেল নিয়ে আসা আরো ৬টি জাহাজ থেকে তেল খালাস শুরু হয়েছে। বুধবার এসব জাহাজ থেকে তেল খালাস শুরু করা হয়। এর আগে আরো ১৮টি জাহাজ থেকে জ¦ালানি তেল খালাস করা হয়।
আগামী দুই এক দিনের মধ্যে এলএনজি ও ডিজেল নিয়ে আরো দুইটি জাহাজ আসার কথা জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। জ্বালানি তেল নিয়ে আসা এসব জাহাজ থকে তেল খালাসের বিষয়টি সবোর্চ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর ফলে দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে যে আতংক তৈরি হয়েছিল তা কেটে যাবে বলেও আশা তাদের।
বুধবার দুপুরে এমন তথ্য জানান বন্দর কর্মকর্তারা
বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীল পরিবেশ, হরমুজ প্রাণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া, ইরানে ইসরাইল ও আমেররিকার যৌথ হামলা, পাল্টা হামলার ঘটনায় বেশ কয়েক দিন ধরে জ¦ালানি তেল নিয়ে জনমনে আতংক তৈরি হয়েছিল।
এরমধ্যেই জ্বালানি তেল, এলপিজি, এলএনজি এবং ফার্নেস অয়েল নিয়ে একের পর এক জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভীড়তে শুরু করেছে। এরমধ্যে প্রায় চার লাখ টন তেল-গ্যাস চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে, কাতার থেকে এলএনজির চতুর্থ চালান এবং মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে দুইটি জাহাজ এরমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙ্গর ফেলেছে। এছাড়া আগামী ২/১দিনের মধ্যে এলএনজি ও ডিজেল নিয়ে আরও দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড সদস্য কমোডর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ।
জ্বালানি তেল নিয়ে জনগনকে আতংকিত না হওয়ার পরমর্শ দিয়ে কমোডর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ আরো জানান, পাইপলাইনে থাকা জাহাজগুলো নির্ধারিত সময়ে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না। এজন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-বিপিসির সাথে সমন্বয় করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় থাকা জ্বালানি তেলবাহী জাহাজের জন্য সবোর্চ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে কমোডর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, জ¦ালানি তেল দ্রুত খালাসে বন্দর কর্তৃপক্ষ সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে। নৌবাহিনী এবং কোষ্টগার্ড জ¦ালানি তেলবাহী এসব জাহাজের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকাকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশপাশি বিকল্প চিন্তা ভাবনাও পরামর্শ দিয়েছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ জানান, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে জ্বালানি তেল বিষয়ে এখনি যদি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা না হয় তা না হলে দেশের অর্থনীতির চাকা থমকে যাবে এবং বিনিয়োগ কমে যাবে। এ জন্য নতুন সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার কথাও বলেন তিনিল।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭০লাখ টন। এরমধ্যে এর মধ্যে পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করা হয় ৫৫ লাখ টন এবং অপরিশোধিত বা ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয় ১৫ লাখ টন। রাষ্ট্রীয় তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ইষ্টার্ণ রিফাইনারী-ইআরএল’এ এখনো পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখটন অপরিশোধিত ক্রুড অয়েল রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ##
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

